১১ মে ২০২৬ তারিখের তথ্যানুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পুলিশ বাহিনীর জন্য নতুন ‘শপথ’ ও মানবিকতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ১০ মে ২০২৬-এ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে "পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬" উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন:
জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব। পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।
মানবিক পুলিশ গঠন: পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা স্বৈরাচারী পন্থায় ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স: সন্ত্রাস ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
২. প্রশাসনের জন্য নির্দেশ: ‘জনগণই শক্তির উৎস’
১১ মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন:
পদ চিরস্থায়ী নয়: তিনি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত নয়; তাই পদমর্যাদা ভুলে জনসেবায় মনোযোগী হতে হবে।
হয়রানিমুক্ত সেবা: সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়া দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রফেশনালিজম বজায় রাখা: পদায়ন বা পদোন্নতির জন্য তদবির না করে কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সাথে দেশের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানান।
৩. ১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ও সুশাসন
সরকার পরিচালনার শুরুতেই তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন:
দ্রুত বাস্তবায়ন: আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে নিজ নিজ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতি নির্মূল: দুর্নীতি দমন ও অপরাধ নির্মূল করাকে সরকারের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বাজার নিয়ন্ত্রণ: পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
৪. ‘জুলাই সনদ’ ও পররাষ্ট্রনীতি
প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে 'জুলাই সনদ'-এর প্রতিটি দফা মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' (আগে বাংলাদেশ) নীতি অনুসরণের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আপনি কি বিশেষ কোনো খাতের (যেমন শিক্ষা বা স্বাস্থ্য) ওপর প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা সম্পর্কে আরও জানতে চান?
আজকের সর্বশেষ সংবাদ | বাংলাদেশের সর্বশেষ আপডেট নিউজ
0 Comments